চকরিয়ায় রাতভর পুলিশের অভিযান অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেপ্তার ৬, উদ্ধার ৮২৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি
স্টাফ রিপোর্টার
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 15, 2026 ইং
মোঃ আবদুল্লাহ্ (আল্-মামুন)।।
কক্সবাজারের চকরিয়ায় (রোববার দিবাগত রাত) পুলিশের বিশেষ অভিযানে দেশীয় তৈরি তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদসহ দুই নারী সহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের সঙ্গে জড়িত এবং অস্ত্র-গুলি তৈরি, কেনাবেচা ও ডাকাতির কাজে ব্যবহারের জন্য অস্ত্র সরবরাহ করত।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে বদরখালী ইউনিয়নের পশ্চিম ছনুয়া পাড়া ও হালকাচা পাড়ায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় মোট ৮২৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, ৫৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ছয়টি মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
চকরিয়া থানা পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির নির্দেশনায় কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ. এন. এম. সাজেদুর রহমানের তত্ত্বাবধানে এবং চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবদুল আজিজ ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে মাদক, অবৈধ অস্ত্র, ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধবিরোধী বিশেষ অভিযান চলছিল।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ৯টা ৫ মিনিটের দিকে লাল ব্রিজ এলাকায় অভিযানিক দল অবস্থানকালে খবর পায় বদরখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ছনুয়া পাড়ার একটি বসতঘরে একদল ডাকাত, ডাকাতির উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছে । পরে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। দুর্গম হওয়ায় গাড়ি রেখে প্রায় দুই কিলোমিটার পায়ে হেঁটে গিয়ে বাড়িটি ঘেরাও করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করলেও পাঁচজনকে আটক করা হয়। এ সময় আরও কয়েকজন পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন----রাজিব ওরফে শুটার রাজিব (২৬), নমি উদ্দিন ওরফে নমি ডাকাত (৪০), জসিম উদ্দিন ওরফে জসু ডাকাত (২৬), মো. সাগর রানা ওরফে শুটার সাগর (২০) ও জহুরা বেগম (৪৫)।
পুলিশের দাবি, তাদের কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি দুইনালা রাইফেল, একটি একনালা রাইফেল, একটি শর্টগান, ৫৮ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, ৫৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, দুটি তাজা শর্টগানের কার্তুজ, দুটি কার্তুজের খোসা, একটি ক্লিনিং রড, অস্ত্র ও গুলি তৈরির সরঞ্জাম এবং ছয়টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যের ভিত্তিতে বদরখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হালকাচা পাড়ায় দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর সময় শহর বানু (৫৫) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বসতঘরের পেছনের পুকুর থেকে একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, ওই বস্তার ভেতর থেকে ৭৬৭ রাউন্ড রাইফেলের গুলি পাওয়া যায়।
পুলিশ বলছে, প্রথম অভিযানে উদ্ধার করা ৫৮ রাউন্ডসহ দুই দফায় মোট ৮২৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি উদ্ধার হয়েছে।
চকরিয়া থানা পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অস্ত্র ও গুলি তৈরি, কেনাবেচা এবং ডাকাতির জন্য অন্যদের কাছে অস্ত্র ভাড়া দেওয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য দিয়েছে। বিভিন্ন সড়ক ডাকাতি, মাছের ঘোনায় ডাকাতি এবং চকরিয়াসহ চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধ ডাকাতির সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও দাবি পুলিশের।
এ ছাড়া গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতি, হত্যা ও অন্যান্য অপরাধে মামলা রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এসব অভিযোগের বিস্তারিত যাচাইও তদন্তাধীন।
এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে জানিয়ে পুলিশ বলেছে, তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চকরিয়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখার অভিযোগে অস্ত্র আইনে এবং ডাকাতির প্রস্তুতি ও ডাকাতির উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়ার ঘটনায় পৃথক মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :